ভারত ও বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দুই দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে গিয়ে আটক হওয়া ৭৯ জন জেলের বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছেন ৩২ জন বাংলাদেশি জেলে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের কারাগারে থাকা ৪৭ জন ভারতীয় জেলেকে তাদের দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন কারাভোগের পর বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) কার্যালয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩২ বাংলাদেশি জেলেকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে আটক জেলেদের বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমারেখায় (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ৪৭ জন ভারতীয় জেলেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সময়ে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে ৩২ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামের একটি ফিশিং বোট গ্রহণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে বাংলাদেশি জেলেদের অপর একটি বোট গ্রহণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণরত অবস্থায় গত ১২ জুলাই এবং ২ আগস্ট ভারতীয় ফিশিং বোট ‘এফবি মা মঙ্গল চণ্ডী’, ‘এফবি ঝড়’ এবং ‘এফবি পারমিতা’সহ মোট ৪৭ জন জেলেকে আটক করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
অপরদিকে, গত ১২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর সমুদ্র সীমারেখা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় মৎস্য আহরণের অভিযোগে দুটি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ৩২ জন জেলেকে আটক করেছিল ভারতীয় কোস্ট গার্ড। বুধবার দুপুরে দেশে ফিরে আসা জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে বিসিজিএস কামরুজ্জামানের অধিনায়ক কমান্ডার শুয়াইব বখতিয়ার রানা বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জেলেদের ফেরত দিতে সম্মত হওয়ায় কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে তাদের স্ব-স্ব দেশের প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ দুপুরে বাংলাদেশি ৩২ জন জেলেকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কারাগারে আরও যেসব বাংলাদেশি জেলে বন্দি রয়েছেন, তাদেরও পর্যায়ক্রমে ছাড়িয়ে আনা হবে।