কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, যদি দেশের সকল জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন করা হয়, তবে তার দল গামছা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নেবে। তবে যদি নির্বাচন শুধুমাত্র বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি–কে কেন্দ্র করে হয়, দেশের জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বাদ পড়ে, তাহলে ভোটের অংশগ্রহণ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে। সেই ক্ষেত্রে তার দলও ভোটে অংশ নেবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কাদেরিয়া বাহিনীর আয়োজনে টাঙ্গাইল হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীরউত্তমও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের বীরত্ব ও স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের কৌশল ও বিচ্ছিন্নতাবাদ জামায়াতকে শক্তিশালী করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জামায়াতের কিছু সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যায় করেছে, নারী-পুরুষের সম্মান ভেঙেছে। তারা যদি ক্ষমা না চায়, তবে তাদের বাংলাদেশে কথা বলার অধিকার থাকা উচিত নয়। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধরে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। মা ও মাতৃভূমি আমার কাছে এক, এবং বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে বাঁচব।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতীক, ফজলুল হক বীর প্রতীক, আব্দুল্লাহ বীর প্রতীক, বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙালসহ অনেকে।

কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দেশের নির্বাচনী ন্যায্যতা, সর্বজনীন ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তার অটল অবস্থান। তিনি বারবার ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, স্বাধীনতার মূল মূল্যবোধকে সম্মান করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।