রাজবাড়ী জেলা দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রায় ১৪ শতাংশ দায়িত্বে থাকলেও স্থানীয় বাজারে ক্রেতারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। ভোক্তা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম এখন প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ক্রেতাদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। সাধারণত এই সময়ে মুড়িকাটা পেঁয়াজ পর্যাপ্ত পরিমাণে আসে, কিন্তু এবার তা দেখা যায়নি।
সোমবার রাজবাড়ী শহরের প্রধান বাজারে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পুরাতন ভালো পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মাঝারি ও ছোট পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১১০ টাকা এবং নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম খুচরা বাজারের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা কম।
স্থানীয় ক্রেতা শরিফুল বলেন, “বাজারে পেঁয়াজ থাকার পরও একমাস ধরে দাম বাড়ানো হচ্ছে। আজ ১২০ টাকা কেজি দেখে বিস্মিত হলাম।” ব্যবসায়ী মান্নান বলেন, “সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারের দাম বেড়েছে, যা দ্রুত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ এসেছে, তবে পরিমাণ কম। ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম কমবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছাবে। এই বছর ৫,৮৭৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল, যেখানে ৫,২৫০ হেক্টর সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৮০-৮৫ হাজার টন পেঁয়াজ আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। আমদানি বাড়লে দাম স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
রাজবাড়ীর ক্রেতারা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় উভয় উৎস থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।