অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে তা না দেওয়ায় নন-সাবমিশনের আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত জানিয়েছেন, রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান মামলাটি দায়ের করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে প্রায় আট মাস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আনোয়ারুজ্জামান নির্বাচনী হলফনামায় তার বিদেশি ও স্থানীয় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। লন্ডনে তার নামে থাকা ৪ হাজার বর্গফুটের বাড়ি এবং ১ হাজার ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, এছাড়া পূর্বাচলে রাজউক বরাদ্দকৃত ৫ কাঠা জমি হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

২০২২–২০২৫ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর ঘোষিত মোট সম্পদ ৮৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা হলেও গ্রহণযোগ্য দালিলিক উৎস ছাড়া তার মোট অগ্রহণযোগ্য নীট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৮ টাকা, যা দুদকের মতে অবৈধভাবে অর্জিত।

দুদকের নোটিশ দিতে গেলে কর্মকর্তারা তার বাসা তালাবদ্ধ পান। নিয়ম অনুযায়ী উপস্থিত সাক্ষী রেখে বাসার গেটে সম্পদ বিবরণীর মূল ফরম টানিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, আনোয়ারুজ্জামান বর্তমানে ওই ঠিকানায় থাকেন না এবং তার স্থায়ী আবাস ও ব্যবসা লন্ডনে।

দুদক সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক রাফি মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত বলেন, “নির্ধারিত সময়ে সম্পদ তথ্য জমা না দেওয়ার কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত এবং পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

মামলাটি সাবেক মেয়রের বিদেশি ও স্থানীয় সম্পদের স্বচ্ছতা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।