কিশোরগঞ্জে এক রাতেই তিনটি স্থানে ধারাবাহিক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার জন্য পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে।
প্রথম ঘটনা ঘটে রাত দেড়টার দিকে পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী এলাকায়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, মোটরসাইকেলযোগে একদল যুবক সেখানে আসে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে সড়কের পাশের একটি লিচু গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে দেয়। হঠাৎ সড়ক অবরোধ হয়ে পড়লে কিশোরগঞ্জ–পাকুন্দিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত গিয়ে গাছ সরানোর কাজ শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
একই রাতে আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সামনে। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। আগুনের খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। তবে কেউ আহত হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুল্লাহ খালিদ বলেন, দ্রুত অভিযান চালানো হলেও গাড়িটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এর কিছুক্ষণ পর শহরের স্টেশন রোডে গ্রামীণ ব্যাংকের যশোদল শাখা লক্ষ্য করে আরো একটি হামলা চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় মুখোশধারী এক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভবনের নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেন। সৌভাগ্যক্রমে আশপাশের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম হওয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই প্রেক্ষাপটে কিশোরগঞ্জে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক নাশকতার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।