রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করলেও লভ্যাংশ অপরিবর্তিত রাখায় কোম্পানির শেয়ারদরে বড় দরপতন ঘটেছে। আলোচিত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও, পরিচালনা পর্ষদ আগের অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের পাশাপাশি এই লভ্যাংশের ঘোষণা দেওয়া হয়। বুধবার (১২ নভেম্বর) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএসসির ইপিএস হয়েছে ২০ টাকা ১০ পয়সা। যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৬ টাকা ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে কোম্পানির ইপিএস বেড়েছে ৩ টাকা ৭৩ পয়সা বা ২২.৭৯ শতাংশ। এছাড়া, আলোচ্য অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১০৪ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের অর্থবছর শেষে ছিল ১০১ টাকা ৯৭ পয়সা।

এত ভালো মুনাফা সত্ত্বেও লভ্যাংশ না বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, বৃহস্পতিবার লভ্যাংশ ঘোষণা-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন সার্কিট ব্রেকারের আওতামুক্ত থাকায় শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারদর ৮ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ কমে ৯৯ টাকা ৭০ পয়সায় নামতে দেখা যায়।

লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এজিএমের স্থান পরে জানানো হবে এবং রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর। বিনিয়োগকারীরা আশা করেছিলেন, মুনাফার সাথে সঙ্গতি রেখে লভ্যাংশের হার বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু সেই আশা পূরণ না হওয়ায় শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ইএফ/