২০২৫ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক লক্ষণ দেখা দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সোমবার ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শুরুতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে জিডিপি প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে প্রধান অর্থনৈতিক সূচকগুলো ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। বিশ্বব্যাংক এ বছর ৩.৩ থেকে ৪.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩.৯ শতাংশ ধরে নিয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে ৫.১ থেকে ৫.৩ শতাংশে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বহিঃখাতের স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি স্থিতিশীলতা এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির পুনরুদ্ধার অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনছে। রপ্তানি আয়ও শক্তিশালী, বিশেষত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে নীতি মেনে চলা ও বাজার বহুমুখীকরণের কারণে।
তবে প্রতিবেদন সতর্ক করে বলেছে, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রম এখনও বড় বাধা। মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের অস্থিরতা, সীমিত বৈদেশিক রিজার্ভ, এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জিইডি জানাচ্ছে, সময়োপযোগী নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে দেশ পুনরায় অর্থনৈতিক গতি ফিরে পেতে পারে। বিশেষ করে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহারে জিইডি বলেছে, কাঠামোগত সংস্কার ও উদ্ভাবন-নির্ভর অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।