আর মাত্র এক মাস পর (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতি বছর রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সুফল খুব একটা দেখা যায় না। এবারও রমজানকে ঘিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক বাজারচিত্রে।

ইতোমধ্যে আমন মৌসুমের চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডালজাতীয় পণ্যের দামও বাড়তি রয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে ১০০ টাকার নিচে থাকা চিনির দাম আবারও কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মাঝারি চাল—বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম—কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চালের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা পর্যন্ত, যা ৮–১০ দিন আগেও ৪ থেকে ৫ টাকা কম ছিল।

বাজারে মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩–৮৪ টাকায়। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ড মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। আর তুলনামূলক দামি মোজাম্মেল মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ১–২ টাকা বেড়ে ৮৫–৮৬ টাকায় উঠেছে।

নাজিরশাইল চালের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মানভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৭০ থেকে ৮২ টাকা। আমদানি করা নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে এলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রমজান মাসে চালের দাম আরও বাড়তে পারে।

রমজানের প্রায় এক মাস আগে থেকেই চিনি ও ডালজাতীয় পণ্যের বাজারেও চাপ দেখা যাচ্ছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং অ্যাংকর ডালের কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর চিনির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি এসেছে। একসময় খোলা চিনির দাম কেজিতে ৯০ টাকায় নেমে এলেও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে এখন কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে।

অ্যাংকর ডাল বর্তমানে কেজিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে কেজিতে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে মোটা দানার মসুর ডাল এখনো কেজিতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন সহনীয় পর্যায়ে থাকার পর মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম কেজিতে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

সব মিলিয়ে রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রোজার মাসে ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।