দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রপ্তানিতে এখনও স্বস্তি নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টানা চার মাস ধরে পণ্য রপ্তানি কমছে। সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ৩৮৯ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ৫.৫৪ শতাংশ কম।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে জুলাইয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ শতাংশ ছিল। কিন্তু আগস্টে ২.৯৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৪.৬১ শতাংশ এবং অক্টোবরে ৭.৪৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় প্রথম পাঁচ মাসে সামগ্রিক বৃদ্ধি মাত্র ০.৬২ শতাংশে সীমাবদ্ধ হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি বেড়েছিল ৮.৫ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২ হাজার ৩ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ০.৬২ শতাংশ বেশি। তবে নিটওয়্যার ও ওভেন তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, প্লাস্টিক ও হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমেছে। বিপরীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চামড়াবিহীন জুতা, ওষুধ ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষত তৈরি পোশাক খাতেই ৫ শতাংশ হ্রাস মূল কারণ। দেশের মোট রপ্তানি ৮০ শতাংশ তৈরি পোশাক। জুলাইয়ে ৩৯৬ কোটি ডলার রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী চার মাসে ধারাবাহিকভাবে পতন দেখা গেছে। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যথাক্রমে ৩০২ ও ৩১৪ কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। জুলাই-নভেম্বরে ৫১ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ৯.৮৮ শতাংশ বেশি। কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রথম পাঁচ মাসে ৪৬ কোটি ডলার রপ্তানি হলেও এটি গত বছরের তুলনায় ৬.৮১ শতাংশ কম।

পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম পাঁচ মাসে ৩৪.৬৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩৬ শতাংশ বেশি। শুধু নভেম্বরেই ৬.৮৯ কোটি ডলারের পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান খাতগুলোর রপ্তানিতে এই পতন বৈশ্বিক চাহিদা ও উৎপাদন খাতের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের টানা চার মাসের হ্রাস অর্থনীতির জন্য চিন্তার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।