বর্তমানে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ১০৪টি মাদার ভ্যাসেল দিয়ে পণ্য বহনে সক্ষমতা রয়েছে ৫৪ লাখ মেট্রিক টন। যা দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের মাত্র ১১ থেকে ১২ শতাংশ। অথচ আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অনুযায়ী, সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ দেশীয় ক্যারিয়ার, ৪০ শতাংশ বিদেশি ক্যারিয়ার এবং বাকি ২০ শতাংশ দেশি ও বিদেশি ক্যারিয়ার যৌথভাবে পরিচালনা করার বিধান রয়েছে।
মার্চেন্ট মেরিন অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পোর্টের সুযোগ-সুবিধা উন্নত হচ্ছে, এর সঙ্গে সঙ্গে যদি আমাদের কার্গো ক্যারিং ক্যাপাসিটিও বাড়ে, তাহলে শিপিং ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ইমপ্যাক্ট ফেলবে।’
সবশেষ অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়েছে বাংলার প্রগতি নামে একটি মাদার ভ্যাসেল। এনিয়ে বিএসসির বহরে বর্তমানে জাহাজের সংখ্যা ৬টি। আর আগামী ডিসেম্বরে যুক্ত হবে বাংলার নবযাত্রা নামে আরও একটি কার্গো ভ্যাসেল। এ অবস্থায় আগামী ৫ বছরে নিজেদের বহরে ২২টি মাদার ভ্যাসেল যুক্ত করার মহা পরিকল্পনা নিয়েছে বিএসসি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এ জাহাজগুলোর মধ্যে আছে বাল্ককেরিয়ার, কন্টেইনার ভ্যাসেল, ওয়েল ট্যাংকার এবং মাদার ট্যাংকার ও মাদার বাল্ককেরিয়ার। সবগুলো ব্লেন্ড করে আমরা একটা সমন্বিত ফ্লিট করে চাই। আমরা যদি ২২টি জাহাজ বিএসসিতে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে অর্জন করতে পারি, তাহলে আমরা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবো।’
২০১৮ এবং ২০১৯ সালে চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা মূল্যে ৩টি করে মোট ৬টি জাহাজ কিনেছিলো বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘যখন দেশি মালিকানাধিন জাহাজের পরিমাণ বাড়বে, তখন আমদানি-রফতানি ও শিপের যে টার্নওভার তারা করছেন, যে রাউটিং করছেন, সে রাউটিংয়ের কন্ট্রোল মোস্টলি আমাদের ওপর থাকবে।’
বাড়তি ভাড়ার আশায় এর একটি জাহাজও চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা বাংলাদেশ জলসীমায় আসে না। তবে, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এসব জাহাজকে বাংলাদেশ রুটে ব্যবহারের পরামর্শ শিপিং ব্যবসায়ীদের।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ সভাপতি শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, ‘ফ্ল্যাগ ওয়েভারের একটা ব্যাপার আছে, আমরা জানি। কিন্তু জাহাজগুলো যদি বাংলাদেশে আসে, আমাদের জন্যও সুবিধা হয় এবং দেশের ফ্ল্যাগ ভেসেল হিসেবে দেশে সার্ভিস দেয়াটা স্বাভাবিক।’
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাণিজ্য শুরু করা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের বহরে এক সময় ৩৮টি জাহাজ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বেসরকারি পর্যায়ে জাহাজের সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গেলেও বিএসসির জাহাজ কমতে কমতে মাত্র ৬টিতে এসে দাঁড়ায়।