গ্ল্যামার জগতের পরিচিত মুখ পিয়া জান্নাতুল বরাবরই ভিন্নমাত্রার উপস্থিতি জানান দিয়েছেন—হোক তা র‍্যাম্পে, অভিনয়ে কিংবা আইন পেশায়। তবে এবার কোনো ফ্যাশন শো কিংবা নাটকের সংলাপ নয়, বরং দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন এই মডেল-অভিনেত্রী।

সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে দেশের নামকরা হাসপাতালগুলোর সেবা ব্যবস্থার প্রতি তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন পিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, অসুস্থ রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যথা, উদ্বেগ আর শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে অপেক্ষা করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তেমন কোনো তৎপরতা বা সহানুভূতির বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।

পিয়া লেখেন, কেউ শখ করে হাসপাতালে আসে না। মানুষ আসে বাধ্য হয়ে, জীবনের প্রয়োজনে। অথচ সেই রোগীদের সময়, কষ্ট কিংবা মানসিক অবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশেষ করে অপেক্ষার দীর্ঘ সময়কে তিনি “চরম অমানবিক অভিজ্ঞতা” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো—দেশের তথাকথিত ‘সেরা’ হাসপাতালগুলোতেও একই চিত্র। আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল ও উচ্চ ব্যয়ের পরও রোগীদের সেবায় সময়ানুবর্তিতা ও মানবিক আচরণের ঘাটতি রয়ে গেছে। এতে করে চিকিৎসা শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পিয়ার মতে, এই বাস্তবতার কারণেই অনেক সামর্থ্যবান মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন। বিষয়টি শুধু উন্নত চিকিৎসা নয়, বরং সম্মান, যত্ন ও মানবিক ব্যবহারের প্রত্যাশা থেকেই। একজন অসুস্থ মানুষ যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন তার প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান—এই বোধটাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রোগী হলেই কি তার সময়ের কোনো মূল্য থাকে না? সামান্য সহানুভূতি আর মানবিক আচরণই পারে এই ব্যবস্থার অনেক কিছু বদলে দিতে।

উল্লেখ্য, শোবিজের পাশাপাশি পিয়া জান্নাতুল সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিষয়ে তিনি আগেও সরব হয়েছেন। এবার চিকিৎসাব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়ে তার এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।