মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় ‘হাওয়া’ সিনেমার পর তিন বছর পর নতুন সিনেমা ‘রইদ’-এ ফেরছেন নাজিফা তুষি। এতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে চরিত্রটি জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা মোটেই সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তুষি প্রকাশ করেছেন, কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে নিজেকে পুরোপুরি চরিত্রে রূপান্তরিত করার জন্য।
তুষি জানান, চরিত্রের জন্য তিনি কোনো কৃত্রিম মেকআপ ব্যবহার করেননি। বরং প্রাকৃতিকভাবে নিজের ত্বককে তামাটে করতে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি শরীরে সরিষার তেল লাগিয়ে রোদে যেতাম। রোদে সরিষার তেল মেখে থাকলে ত্বক খুব দ্রুত বার্ন হয়ে যায়। আমার চামড়া এমনভাবে পুড়ে গিয়েছিল, একদম কয়লার মতো।”
মেকআপ ব্যবহার না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তুষি বলেন, “মেকআপ করলে দৌড়াদৌড়ি, বৃষ্টি বা ঘামলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাতে চরিত্রের প্রকৃত ভাব বের হয়ে আসার সম্ভাবনা থাকত। তাই আমি ঝুঁকি নিতে চাইনি।”
তিনি আরও জানান, “এই প্রথম আমি এমন একটি চরিত্রে কাজ করেছি যার কোনো নামও ছিল না। চরিত্রের মানসিক অবস্থা এবং আচরণের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। দর্শকের কাছে সহজ মনে হলেও বাস্তবে এটি খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল।”
শুটিংয়ের সময় তুষি এবং অন্যান্য শিল্পীরা স্থানীয়দের মতো জীবনযাপন করেছেন। পোশাকও তারা রাস্তার ধারের সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত কাপড় থেকে সংগ্রহ করেছেন। তুষি বলেছিলেন, “চরিত্রের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা আনাটাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। তাই সবকিছু প্রকৃতির মতোই রাখার চেষ্টা করেছি।”
নাজিফা তুষির এই চেষ্টা সিনেমায় চরিত্রটিকে আরও জীবন্ত ও দর্শকপ্রিয় করে তুলেছে।