ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৪ ডিসেম্বর)। সেদিন লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়ি থেকে দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন নিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন একটি পার্টিতে মা-বাবার সঙ্গে নিকের প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী সেই পারিবারিক কলহের কথা স্বীকার করলেও ঝগড়ার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার শুরু থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন নিক। মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে মামলাটি তোলা হবে। বাদী ও বিবাদী পক্ষ বুধবার পর্যন্ত অভিযোগ দায়েরের সময় পাবেন।
রব ও মিশেলের একমাত্র পুত্র নিক নিজেও একজন নব্য পরিচালক। তবে তার অতীত বেশ অম্লমধুর। দীর্ঘ সময় তিনি মাদকাসক্তি ও টেক্সাস-নিউ জার্সির রাস্তায় ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন। বাবার পরিচালিত ‘বিইং চার্লি’ সিনেমায় সহযোগী লেখক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি, যেখানে নিজের মাদকাসক্তি ও গৃহহীন জীবনের গল্পই তুলে ধরেছিলেন নিক।
পরিবারের শোক নিকের বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও রেইনার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে মিশেল ও রব রাইনার আর আমাদের মাঝে নেই। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা বিধ্বস্ত।’ রব রেইনার হলিউডের একজন কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘স্লিপলেস ইন সিয়াটেল’ এবং ‘দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
পাশাপাশি তিনি ‘দিস ইজ স্পাইনাল ট্যাপ’, ‘দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড’, ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ এবং ‘এ ফিউ গুড মেন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯৮৯ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন মিশেল সিঙ্গার রেইনারকে। ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’ সিনেমার পরিচালনার সময় তাদের পরিচয় হয়।