বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সম্প্রতি যোগ দেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এক আধ্যাত্মিক গুরুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে। সেই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। অনুষ্ঠানে পৌঁছে ঐশ্বরিয়া প্রথমেই মোদির পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।

ঐশ্বরিয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধর্ম, জাতপাত ও মানবতার ওপর নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি শুধুমাত্র একটি ধর্মে বিশ্বাস করি মানবতা। আর আমার কাছে একটাই জাত আছে, সেটি হলো ভালোবাসা। ঈশ্বর সর্বত্র, আর মানবিকতার চর্চাই তাঁকে পাওয়ার পথ।

তিনি আরও বলেন, জীবনের আসল সার্থকতা হলো মানুষের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া। ধর্ম-বর্ণের বিভাজনের বদলে মানবিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐশ্বরিয়া তার বক্তৃতায় মানুষের চরিত্র গঠনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির কথা বলেন নিয়মানুবর্তিতা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, শ্রদ্ধা এবং বৈষম্যের মধ্যেও ঐক্য। তার ভাষায়, এই পাঁচ ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই একজন মানুষের জীবন সমৃদ্ধ হয় এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্বসুন্দরী হওয়ার পর থেকে ঐশ্বরিয়া বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সচেতনতামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ব্যক্তিগত রূপ, চেহারার পরিবর্তন বা পোশাক বাছাই নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হলেও তিনি এসব মন্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। বরং ইতিবাচকতা নিয়েই মানুষের মাঝে ভালো বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

এই অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে অভিনেত্রীর মানসিকতা, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং সমাজে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি তার অঙ্গীকারকে।