ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি অধ্যায়ের কথা উঠলেই যে দুটি নাম অনিবার্যভাবে সামনে আসে, তারা হলেন শাবনূর ও কনকচাঁপা। একজন রূপালি পর্দার অবিসংবাদিত নায়িকা, অন্যজন পর্দার আড়ালে থেকে সেই রূপকে প্রাণ দেওয়া কণ্ঠশিল্পী। শাবনূরের জন্মদিনে দীর্ঘ এক আবেগঘন লেখায় সেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরলেন কনকচাঁপা।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কনকচাঁপা শাবনূরকে আখ্যা দেন “একটি পরিপূর্ণ প্রতিভার নাম” হিসেবে। তিনি লেখেন, শাবনূরের অভিনয়, সংলাপ বলার ভঙ্গি, সৌন্দর্য, চাঁদপানা মুখশ্রী ও প্রাণবন্ত চোখ—সব মিলিয়ে কয়েক দশক ধরে একটি পুরো প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রেখেছে। তার প্রভাব আজও অম্লান, এমন শিল্পী যুগে যুগে একজনই জন্মান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শাবনূরের চলচ্চিত্রজীবনের অধিকাংশ গানের কণ্ঠশিল্পী ছিলেন কনকচাঁপা। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, “তার করা প্রায় শতাধিক গানের মধ্যে ৯৯টিই আমার গাওয়া। আমরা যেন দুই দেহে এক প্রাণ। আমি আমার মতো করে গেয়েছি, তিনি তার মতো করে অভিনয় করেছেন। কিন্তু পর্দায় গানগুলো দেখার সময় আমারই মনে হয়েছে—এটা যেন তার নিজের কণ্ঠ। এই যে কণ্ঠ ও অভিনয়ের এমন মিশে যাওয়া, এর পুরো কৃতিত্ব আমি শাবনূরকেই দিতে চাই।”

ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে কনকচাঁপা জানান, কাজের ধরন আলাদা হওয়ায় দুজনের দেখা খুব বেশি হয়নি। তবে যতবারই দেখা হয়েছে, শাবনূরের সহজ-সরল আচরণ ও শিশুসুলভ হাসি তাকে মুগ্ধ করেছে। সাধারণ জীবনে এতটা শান্ত একজন মানুষ কীভাবে পর্দায় এত গভীর ও সিরিয়াস অভিনয় করেন—তা ভেবেই বিস্মিত হয়েছেন বলে লেখেন তিনি।

দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করলেও এই দুই শিল্পীকে ঘিরে কোনো বড় আয়োজন না হওয়ায় আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন কনকচাঁপা। তার ভাষায়, “আমি কখনো কোনো চ্যানেলকে অনুরোধ করিনি। তবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কয়েকটি চ্যানেলে প্রস্তাব দিয়েছিলাম—শাবনূর আর আমাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করার জন্য। কিন্তু কেউই সাড়া দেয়নি। এই দেশে শিল্পীর যথাযথ মূল্যায়ন পাওয়া সত্যিই কঠিন।”

তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন তার গান আর শাবনূরের অভিনয়ের যুগলবন্দি নিয়ে গবেষণা হবে, যদিও তখন হয়তো তা দেখার মতো মানুষ খুব কমই বেঁচে থাকবেন।

এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছায় ভাসছেন শাবনূর। সামাজিক মাধ্যমে কেক কাটার একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি ভক্তদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন, “এই ভালোবাসাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ও অনুপ্রেরণা। আপনাদের দোয়া আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।”

উল্লেখ্য, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে পরবর্তী এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাবনূর ও কনকচাঁপা দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান, যা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের স্মরণীয় সম্পদ হয়ে আছে।