বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ও স্থিতিশীল দম্পতিদের একটি সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খান। ২০১২ সালে বিয়ে করে তারা শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, পেশাগত জীবনেও তৈরি করেছেন এক ভারসাম্যপূর্ণ অধ্যায়। বয়সের ব্যবধান, তারকাখ্যাতি কিংবা ক্যারিয়ারের চাপ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তাদের সম্পর্ক বরাবরই নজর কেড়েছে দর্শক-ভক্তদের। তবে এই মসৃণ দাম্পত্য জীবনের পেছনে ছিল এক সময়ের অস্বস্তি, ভয় আর মানসিক দ্বন্দ্ব—যা সম্প্রতি অকপটে স্বীকার করেছেন সাইফ নিজেই।
২০০৮ সালে ‘টশন’ ছবির শুটিং সেটে শুরু হয় তাদের ঘনিষ্ঠতা। সে সময় শাহিদ কাপুরের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ভেঙে নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন কারিনা। ঠিক সেই সময়ই সাইফ তার জীবনে প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। প্রেমের শুরুটা রোমান্টিক হলেও, ভেতরে ভেতরে সাইফ ভুগছিলেন এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত কাউকে আগে কখনো জীবনসঙ্গী হিসেবে কল্পনা করেননি তিনি।
সাইফ বলেন, সম্পর্কের প্রথম দিকে আবেগ এতটাই প্রবল থাকে যে বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে চলে যায়। কারিনার সঙ্গে কাজ করা অন্যান্য অভিনেতাদের তিনি নিজের অজান্তেই প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছিলেন। এই মানসিক টানাপোড়েন তার জন্য সহজ ছিল না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি, এসেছে পরিণত বোধ।
আজ সেই অতীতের কথা স্মরণ করে সাইফ স্পষ্টভাবে বলেন, কারিনাই তাদের সংসারের মূল ভরসা। তার মতে, কারিনা শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, একই সঙ্গে দায়িত্বশীল মা ও সহানুভূতিশীল জীবনসঙ্গী। সংসারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তার স্থিরতা ও ইতিবাচক মনোভাব পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
দুই সন্তান তৈমুর ও জেহকে ঘিরে এখন তাদের জীবন আবর্তিত। সাইফের ভাষায়, কারিনার উপস্থিতিতেই তাদের বাড়ি একটি সত্যিকারের ‘ঘর’ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতার জায়গা থেকে বিশ্বাস ও নির্ভরতার যে পথচলা, সেটিই আজ তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি।