সম্প্রতি নতুন জীবনে পা রেখেছেন রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। নতুন জীবন কীভাবে কাটাচ্ছেন তিনি? অবলিলায় সময় সংবাদকে বললেন, ‘বেশ ভালো সময় কাটছে। মনে হচ্ছে ভ্যাকেশনে আছি। আমার স্বামী দেশের বাইরে স্থায়ী। আমি ছুটি পেলে ওর কাছে চলে যাই। খারাপ না জীবনটা; ভালোই।’

তনি কী দেশের বাইরে স্থায়ী হচ্ছেন? সেই প্রশ্নে তিনি জানালেন, ‘দেশের বাইরে স্থায়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ আমার বিজনেস বাংলাদেশে। এসব ছেড়ে আমি কখনও বিদেশে সেটেলড হতে চাই না। তবে আমার সন্তানরা যদি বাইরে পড়তে চাই তাহলে আমার বাধা নেই। উন্নত পড়াশোনার জন্য তারা বিদেশে যেতেই পারে। আমি মা হিসেবে তাদের ইচ্ছাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করবো।’


বর্তমানে বিজনেসের অবস্থা সম্পর্কে তনি জানালেন, ‘মোটামুটি ভালোই চলছে আমার বিজনেস। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সবকিছু আবার ঠিক হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অন্য নারীর অনুপ্রেরণার প্রশ্নে তার অভিমত, ‘আমাদের সমাজ নারীদের দুর্বল ভাবে। অনেক সময় নারীরাও নারীদের দুর্বল মনে করে। এই ভাবনাটা অনেকখানি পিছিয়ে দেয় তাদের। মনোবল হারিয়ে যাই। তবে একজন নারীকে ভাবতে হবে তুমি নারী, এটাই তোমার পাওয়ার, এটাই শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
অনেক মেধাবী নারী আছেন যারা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চাকরি ছাড়ছেন, নষ্ট করে দিচ্ছেন নিজের ক্যারিয়ার সেই প্রসঙ্গে সময় সংবাদকে তনি জানালেন, ‘অনেকেই আছেন যারা নিজের ইচ্ছাতে চাকরি ছাড়েন; তবে এই সংখ্যাটা কম। পারিবারিক চাপে চাকরি ছাড়ার সংখ্যাটা বেশি। আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, ঘরের কাজ মেয়েরাই করবে। কিন্তু এই ধারণার পরিবর্তন করতে হলে একজন নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে। তার সঙ্গীকে বোঝাতে হবে। দিনশেষে ক্যারিয়ারের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করা একেবারেই উচিত নয়। যাকে বিশ্বাস করে সব ছেড়ে দিচ্ছেন সে যে প্রতারণা করবে না তার কী গ্যারান্টি?’


পুরুষ একাধিক বিয়ে করলে প্রশ্ন ওঠে না, নারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই উল্টো এটা নিয়ে তনির মতামত, ‘ওইযে আমাদের সমাজব্যবস্থা ঠিক এভাবেই চলছে। কিন্তু আইনতভাবেই যদি দেখা হয় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে বিয়ে করতে হবে। এটাওতো পুরুষরা করছেন না। বরং নারীদেরই বিভিন্নভাবে ট্রল কিংবা বুলিং করা হচ্ছে। সমাজ চাই একজন বিধবা নারী সারাজীবন একাই থাকুক। কিন্তু সেই নারীর ভালো-খারাপের বিষয়গুলো সমাজ চাপিয়ে দিতে পারে না। তার সিদ্ধান্তটাকে প্রাধান্য দিতে হবে।’


নারীরাই কী নারী উন্নয়নের বাধা? কী ভাবছেন তনি, ‘কাজের ক্ষেত্রে আমাকে প্রতিদিনই লাইভে আসতে হয় সেখানে দেখা যায় নারীরাই বেশি বুলিং করছে। অনেকে আবার ফেক আইডি ব্যবহার করেও এমনটা করছে। কিন্তু এসব বাজে কাজে সময় নষ্ট না করে যদি নিজের যোগ্যতা বৃদ্ধি করত তাহলে তার ফিউচার কিংবা দেশেরও উন্নতি হত। অনেকেই বলেন গ্রাম থেকে এসে আমি এত কিছু কীভাবে করলাম। এখানে আমার প্রশ্ন, তারা কেন শহরে থেকেও আমার থেকে ভালো কিছু করতে পারছেন না। তাই পেছনে লেগে না থেকে নিজেও তার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারে।’