বলিউড তারকা রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে এবার গুরুতর আইনি অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তার নামে এফআইআর দায়ের হওয়ায় নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন এই অভিনেতা। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুর হাই গ্রাউন্ড থানায় করা মামলাটি ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণাটকের উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র ‘চৌভুন্ডি দৈব্য’ সংস্কৃতি এবং হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সূত্রপাত কয়েক মাস আগে গোয়ায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার মাধ্যমে।
ওই অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠে পরিচালক ও অভিনেতা ঋষভ শেট্টির প্রশংসিত সিনেমা ‘কান্তারা’র ভূয়সী প্রশংসা করেন রণবীর। তবে প্রশংসা করতে গিয়ে অতিউৎসাহে তিনি সিনেমায় দেখানো দেবী চামুণ্ডাদেবীর ভঙ্গি অনুকরণ করে অভিনয় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তিনি দেবীকে ‘মহিলা ভূত’ বলে উল্লেখ করেন, যা উপস্থিত দর্শক ও স্থানীয় সংস্কৃতির অনুসারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এই ঘটনায় বেঙ্গালুরুর আইনজীবী প্রশান্ত মেঠাল আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬, ২৯৯ ও ৩০২ ধারায় রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিনেতা অভিনয়ের নামে দেব-দেবীকে উপহাস করেছেন এবং কর্ণাটকের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অবমাননা করেছেন।
ঘটনার সময় দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন ‘কান্তারা’ খ্যাত নির্মাতা ঋষভ শেট্টি নিজেও। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রণবীরের আচরণে তিনি অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করেছিলেন এবং বারবার ইশারায় তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।
ঋষভ শেট্টি বলেন, দেবী বা দৈব্য সংস্কৃতি কেবল সিনেমার উপাদান নয়, এটি বহু মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই ধরনের পবিত্র বিষয় নিয়ে মঞ্চে বা বিনোদনের নামে অনুকরণ করাকে তিনি বরাবরই অনুচিত মনে করেন।
এ ঘটনায় রণবীর সিংয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি তার ক্যারিয়ারে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে বলিউড অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।