১২ হাজার বছরের দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তার পর ইথিওপিয়ার হায়লি গুবি আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্নুৎপাত ঘটেছে। উল্কাপাতের মতো ছাই এবং ঘন ধোঁয়া আকাশে ১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়েছে এবং ইয়েমেন, ওমান, ভারত ও পাকিস্তানের আকাশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, রোববার আফার অঞ্চলের হায়লি গুবি আগ্নেয়গিরিটি কয়েক ঘণ্টার জন্য অগ্নুৎপাত করে। রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ইরিত্রিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উচ্চতায়। এটি দুটি ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরি সক্রিয়তা এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

ভিএএসি (টুলুজ আগ্নেয়ছাই পরামর্শ কেন্দ্র) জানিয়েছে, অগ্নুৎপাতের পর আগ্নেয়ছাইয়ের মেঘ ইয়েমেন ও ওমান পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ভেসে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশের দিকে উঠা ঘন সাদা ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দৃশ্যমান হয়েছে।

স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন জানিয়েছে, হোলোসিন যুগে হায়লি গুবিতে এর আগে কোনো অগ্নুৎপাতের রেকর্ড নেই। মিশিগান টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সাইমন কার্নও নিশ্চিত করেছেন, “প্রায় ১২ হাজার বছর ধরে এই আগ্নেয়গিরি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল।”

এই অগ্নুৎপাতকে ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু স্থানীয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছাই এবং ধোঁয়া আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক গবেষক দল বর্তমানে আগ্নেয়গিরি অঞ্চলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।