যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিধিনিষেধকে সীমিত করেছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সই হওয়া এই আদেশে দেশের এআই শিল্পের জন্য একটি “একক জাতীয় কাঠামো” তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা উইল শার্ফ বলেন, ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিয়ম প্রযুক্তি শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দেশনায় কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করে ফেডারেল কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এআই ও ক্রিপ্টো বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকস জানিয়েছেন, শিশুসুরক্ষা সংক্রান্ত অঙ্গরাজ্য আইনকে কেন্দ্রীয়ভাবে চ্যালেঞ্জ করা হবে না। তবে অন্যান্য অঙ্গরাজ্য আইন কার্যকর না করার অধিকার আদেশে অন্তর্ভুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “সব অঙ্গরাজ্য আইন বাতিল করা হবে না; শুধু শিল্পের উদ্ভাবনের পথে বাধা সৃষ্টিকারী আইনগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”

সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভিন্ন আইনগুলো দেশীয় এআই উদ্ভাবনের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। ওপেনএআই প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানসহ অনেকেই বলেন, অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, অতিরিক্ত শিথিলতা কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি সীমিত করবে এবং ভোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

এআই প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই অর্থনীতি, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও পুলিশিংয়ে ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ফেডারেল আইন না থাকায় কিছু অঙ্গরাজ্য নিজ উদ্যোগে আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে ডিপফেক, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

নির্বাহী আদেশের সমালোচকরা বলছেন, জনপ্রিয় অঙ্গরাজ্য আইনগুলোকে এভাবে আক্রমণ করা ঠিক হয়নি। তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিটজের সরকারি বিষয়ক প্রধান কলিন ম্যাককিউন এটিকে “দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নীতিমালার জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে দেখছেন।