ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো টানা তিন দিন ধরে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল করায় দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুধু শুক্রবারই বাতিল হয়েছে ৬০০টির বেশি ফ্লাইট; তার আগের দিন বৃহস্পতিবার বাতিল হয়েছিল আরও ৫৫০টি। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় লাখো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর কাউন্টারের সামনে অসংখ্য যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় ছিলেন। যাত্রীদের অভিযোগ, খাবার বা বিশ্রামের ব্যবস্থা ছাড়াই তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবুও বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে পরবর্তী ফ্লাইটের সময় নিশ্চিত করে জানানো হচ্ছে না।
অনেকে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতির সুযোগে অন্যান্য এয়ারলাইন্স টিকিটের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ’র নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ বিধি। পাইলট ও কেবিন ক্রুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৪ সালেই এই নিয়ম জারি হয়। এতে বলা হয়—

  • সাপ্তাহিক ন্যূনতম ৪৮ ঘণ্টা বিশ্রাম,
  • প্রতি সপ্তাহে একজন পাইলট রাতে সর্বোচ্চ দুইটি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন (আগে ছিল ছয়টি),
  • পরপর দুইদিন নাইট ডিউটি সপ্তাহে একবারের বেশি দেওয়া যাবে না।

বিধিটি বাস্তবায়ন জুন ২০২৪-এ হওয়ার কথা থাকলেও বিমান সংস্থাগুলোর অনুরোধে তা একাধিকবার পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে ডিজিসিএ ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন শুরু করে।

ইন্ডিগো ভারতের সবচেয়ে বড় সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা, যারা প্রতিদিন অসংখ্য রাতের ফ্লাইট পরিচালনা করে। ফলে নতুন বিধি মানতে গিয়ে তাদের বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পাইলট ও কর্মীর প্রয়োজন হয়েছে, যা এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থাটি স্বীকার করেছে—পাইলট সংকটই তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে।

ভারতের দুই প্রধান পাইলট সংগঠনের অভিযোগ—বিধি জারি হওয়ার পর প্রায় দুই বছর সময় পাওয়া সত্ত্বেও ইন্ডিগো নতুন পাইলট নিয়োগ বা পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। বরং নিয়ম শিথিল করাতে চাপ তৈরি করতে চেয়েছিল।
তাদের দাবি, অন্য বিমান সংস্থাগুলো আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল; কিন্তু ইন্ডিগো পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইন্ডিগো অবশ্য বলছে—প্রযুক্তিগত সমস্যা, শীতকালীন সময়সূচির পরিবর্তন, কর্মীদের সংশোধিত ডিউটি আওয়ার এবং আকাশপথে অতিরিক্ত যানজট—সব মিলিয়েই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।