ইসলামাবাদের আদালত চত্বরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারত এবং আফগানিস্তানকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো প্রকার উস্কানি বা আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাব দিতে পাকিস্তান পূর্ব (ভারত) ও পশ্চিম (আফগানিস্তান) উভয় সামরিক সীমারেখায় যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে খাজা আসিফ বলেন, “যদি তারা চূড়ান্ত লড়াই চায়, তাহলে আমাদের কাছে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।” ইসলামাবাদে হামলার ঘটনার সঙ্গে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর জড়িত থাকার প্রধানমন্ত্রীর দাবির পর তিনি এই মন্তব্য করেন। যদিও পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাবুলকে সরাসরি সতর্ক করে অভিযোগ করেন, তালেবান সরকার পাকিস্তানে সহিংসতা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে কোনো ‘ঐক্যবদ্ধ সরকার’ নেই এবং তালেবান শাসকগোষ্ঠীর কিছু অংশ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তাঁর দাবি, “এই দুটি হামলা আফগানিস্তান থেকে চালানো হতে পারে, কিন্তু এটি মূলত ভারতের আগ্রাসন; যা আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে আমাদের দেশে পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে পাকিস্তান কখনোই আগ্রাসী পদক্ষেপ না নিলেও, কোনো আগ্রাসনকে বিনা জবাবদিহিতে ছেড়ে দেবে না, বরং শক্তিশালীভাবে জবাব দেবে।
দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনা প্রসঙ্গে খাজা আসিফ ভারতের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনাকে প্রথমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বলা হলেও এখন তারা এটিকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করলেও তিনি অবাক হবেন না। তিনি ভারত ও আফগানিস্তানকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করেন এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, পাকিস্তান আঘাত হানলে একই পদ্ধতিতে পাল্টা আঘাত করবে। এই বিবৃতিটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ইএফ/