ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয় জন নিহত ও দেড়শ’র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে গ্রিড অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়, যদিও জরুরি ভিত্তিতে ৪ লাখেরও বেশি পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা মন্তব্য করেছেন, যখন বিশ্ব শান্তি আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত, রাশিয়া তখন তার যুদ্ধ পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা ও ধ্বংস চালিয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় রাশিয়া প্রায় ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। কিয়েভে দুজন এবং রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, আহতদের মধ্যে ২৯ জন রয়েছেন, যাদের অনেকের ওপর ড্রোন প্রতিরোধের সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে। কিয়েভ মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান টিমুর টকাচেঙ্কো বলেন, "রাশিয়া পুরো পরিবারকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।"

এদিকে, এই সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একটি প্রতিনিধিদল ‘সম্মানজনক শান্তি’ ও যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছে। প্রাক্তন প্রতিরক্ষা প্রধান রুস্তেম উমেরভের নেতৃত্বে দলটি ফ্লোরিডায় মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করবে। জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, "লক্ষ্য স্পষ্ট: যুদ্ধ শেষ করার জন্য পদক্ষেপ দ্রুত নির্ধারণ করা।" যদিও যুদ্ধের এই পর্যায়ে ইউক্রেনের পরিস্থিতি খুব একটা আশাবাদী হওয়ার মতো নয়, তবুও কূটনৈতিক পথে সংঘাত অবসানের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ইএফ/