ইকুয়েডরে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোটের পাল্লাই ভারী। এক-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবটির বিপক্ষে মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংবিধান পুনর্লিখনের জন্য নতুন একটি অ্যাসেম্বলি গঠনের প্রস্তাবটিও জনসমর্থন পাচ্ছে না; এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ৬১ শতাংশ ভোটার মত দিয়েছেন।

উভয় প্রস্তাবে পরাজয় হলে তা দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়ার জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হবে, কারণ তিনি এই দুটি প্রস্তাবের পক্ষেই জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। নোবোয়া দাবি করেছিলেন, সংগঠিত অপরাধ দমনে বিদেশি সহযোগিতা এবং প্রয়োজনে যৌথ কিংবা বিদেশি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি দেশের জন্য জরুরি।

প্রস্তাবটি পাস হলে ২০০৮ সালে নিষিদ্ধ হওয়া বিদেশি সামরিক ঘাঁটিগুলো ইকুয়েডরে আবার ফিরতে পারত। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পুনরায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের মান্টা বিমানঘাঁটি ব্যবহার করার সুযোগ পেত, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।

প্রেসিডেন্ট নোবোয়া যুক্তি দিয়েছিলেন, সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার আমলে প্রণীত বর্তমান সংবিধান দেশের নতুন বাস্তবতা প্রতিফলিত করতে পারছে না, তাই এটিকে সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্তু গণভোটে মানুষের রায় তার এই দাবির বিপক্ষে যাওয়ায়, দেশের ভবিষ্যৎ আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হতে পারে।

ইএফ/