গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরের পরই হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের শুরুতে নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘স্লিপি জো’ তথা ‘ঘুমকাতুরে জো’ বলে মন্তব্য করেন যে মন্তব্য তাকে প্রায়ই করতে দেখা যায়।
এরপর তার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রতিবেদন করায় নিউইয়র্ক টাইমসকে তিরস্কার করতে গিয়ে ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প বলেন, তিনি এখন ‘২৫ বছর আগের চেয়ে বেশি চনমনে’। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ধীরগতির হয়ে পড়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘টাম্প এখন আগের চেয়ে চটপটে। কিন্তু তারাই (নিউইয়র্ক টাইমস) চটপটে নয়।’ স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিকদেরও তুলোধোনা করেন তিনি। কিন্তু ওই বৈঠকেই পরবর্তী প্রায় দেড় ঘণ্টা নিজের সেই ‘চনমনে ভাব’ ধরে রাখতে হিমশিম খান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সিএনএন লিখেছে, প্রকৃতপক্ষে দুপুরের ভাতঘুমের সাথে তিনি রীতিমতো যুদ্ধ করছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। এমনকি যখন তার মন্ত্রিসভা তার নানা কাজকর্মে প্রশংসা করছিল, তখনও তিনি বারবার ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। শিক্ষা, শ্রম, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য চলাকালে একই দৃশ্য বারবার চোখে পড়ে। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও তার ‘পরিবর্তনধর্মী’ বৈদেশিক নীতির প্রশংসা করার সময়ও প্রেসিডেন্টকে পাশের চেয়ারে ঢলে পড়তে দেখা যায়। রুবিওর ফুটবল নিয়ে করা রসিকতায় অন্যরা হাসলেও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল ম্লান। সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের বৈঠকে একাধিকবার মনোযোগ হারান প্রেসিডেন্ট। তবে হোয়াইট হাউস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনোযোগ দিয়ে সব বক্তব্য শুনেছেন এবং পুরো তিন ঘণ্টার বৈঠক পরিচালনা করেছেন।’