ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের জুকো উপত্যকায় গত তিন দিন ধরে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, দাবানল শুরু হয়েছিল স্থানীয় চারজন ট্রেকারের অসাবধানতার কারণে। তারা উপত্যকায় ট্রেকিং করার সময় তাঁবুর সামনে ক্যাম্পফায়ার জ্বালিয়ে পানির খোঁজে বের হন। ফিরে আসার পর দেখেন, আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
উদ্ধারের সময় ট্রেকাররা উপত্যকার ১.৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। দুর্গম জঙ্গল ও খাড়া ঢাল থাকার কারণে সাধারণ দমকল বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। শুষ্ক আবহাওয়া ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
নাগাল্যান্ডের কোহিমা জেলার দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী আগুন নেভাতে চেষ্টা করলেও পথের অসুবিধার কারণে কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাজ্য সরকার ভারতের বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নিয়োগ দিয়েছে। হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং ট্রেকারদের নিরাপত্তার কারণে জঙ্গল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন, উপত্যকায় এখনো আগুনের বিস্তার অব্যাহত এবং পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, প্রাথমিকভাবে ট্রেকারদের অসতর্কতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা আরও বলেন, “দূর্ঘটনার পরও আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষের নিরাপত্তা এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা।”
নাগাল্যান্ডের জুকো উপত্যকা একটি পর্যটকপ্রিয় স্থান হলেও প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও দুর্গম ভূগোলের কারণে দাবানল মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিমান বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।