ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার রাফা এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে আটকা থাকা প্রায় ৪০ হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, বাহিনী গত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে হামাস যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র জানাচ্ছে, রাফার সুড়ঙ্গে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন হামাস যোদ্ধা আটকা রয়েছেন। কয়েকজন সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেও অনেকে নিহত বা আত্মসমর্পণ করেছেন। এর আগে হামাসের অস্ত্র জমা দেওয়ার বিনিময়ে তাদের নিরাপদ স্থানান্তরের জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—বিশেষত ওয়াশিংটন—চুক্তি আলোচনা করেছিল। কিন্তু আলোচনাটি ভেস্তে যাওয়ায় বহু যোদ্ধা এখনও সুড়ঙ্গে অবস্থান করছেন।

ইসরায়েলের দাবি, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন স্থানীয় কমান্ডার রয়েছেন। নিহতদের তালিকায় হামাসের নির্বাসিত নেতা গাজি হামাদের পুত্রও অন্তর্ভুক্ত। তবে হামাস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বা কে মারা গেছেন তা নিশ্চিত করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, এই চুক্তি হামাসকে গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্র করার বৃহত্তর পরিকল্পনার পরীক্ষা হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।

দূত ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাফার এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হামাস যোদ্ধাদের প্রতি আক্রমণ ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য না আসায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত। গাজার ভূগর্ভস্থ অঞ্চলে থাকা ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সুড়ঙ্গের অভিযান ও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে যে তথ্য এসেছে, তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আরও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।