সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের গ্রামীণ অঞ্চলে ইসরায়েল ফের হামলা চালিয়েছে, যার ফলে শিশুসহ কমপক্ষে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-ইখবারিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে বেইত জিন ও মাযরাত বেইত জিনের মধ্যবর্তী এলাকায় চালানো এই অভিযানে নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। এই হামলার জেরে কয়েক ডজন পরিবার বেইত জিন শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সি (সানা) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজন সিরিয়ানের মরদেহ কুনেইত্রার আল-সালাম শহরের গোলান জাতীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারকারী দলগুলো আহতদের উদ্ধারের জন্য বেইত জিনে প্রবেশ করতে পারেনি, কারণ ইসরায়েলি ড্রোনগুলো ওই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছে এবং এখনো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো নৃশংস ও ইচ্ছাকৃত গোলাবর্ষণ অভিহিত করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি:

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা দক্ষিণ সিরিয়ার বেইত জিন এলাকায় সক্রিয় ‘আল-জামা ইসলামিয়া’ এর সদস্যদের লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে, যারা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাত। দখলদার বাহিনীর দাবি, এই অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় ছয়জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, বেইত জিনে অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি টহল দলকে ঘিরে ফেলা হলে তারা পাল্টা বিমান হামলা এবং কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ায় ঘন ঘন হামলা চালিয়ে আসছে। সিরিয়ার সরকারি তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ায় ১ হাজারের বেশি বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ৪০০টিরও বেশি আন্তঃসীমান্ত অভিযান চালিয়েছে। শুধুমাত্র চলতি নভেম্বর মাসেই দক্ষিণ সিরিয়ায় ৪৭টি অভিযান চালিয়েছে দখলদাবাহিনী।

ইএফ/