ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন নীতি কার্যকর হওয়ার প্রাক্কালে, জার্মানি অন্তত আগামী বছর পর্যন্ত অভিবাসী গ্রহণের বাধ্যতামূলক কোটা থেকে অব্যাহতি চাইতে পারে। ইইউর এই নতুন নীতি অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোকে হয় আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করতে হবে, নয়তো এর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-এর হাতে আসা ইইউর এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। নথিটিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, জার্মানি এই যুক্তি উত্থাপন করতে পারে যে তারা ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে, যাদের দায়িত্ব অন্যান্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বহন করা উচিত ছিল।

জার্মান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ জার্মানিতে শরণার্থীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ছিল, যা ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে কমে ৩৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে বিভিন্ন মর্যাদায় বসবাসকারী দীর্ঘমেয়াদী শরণার্থী, নতুন আশ্রয়প্রার্থী এবং ইউক্রেন থেকে আসা শরণার্থীরা অন্তর্ভুক্ত।

ইইউর অভিবাসন কমিশনার মাগনুস ব্রুনারের তথাকথিত ‘সংহতি পুল’ সম্পর্কিত এই বিশ্লেষণটি ইইউর আশ্রয় সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো অভিবাসন ইস্যুতে তীব্র চাপের মুখে থাকা সম্মুখসারির দেশগুলো (যেমন গ্রিস, সাইপ্রাস, স্পেন ও ইতালি) থেকে দায়িত্বের ভার অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা। মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশন এই চারটি দেশকে সংহতি ব্যবস্থার মূল দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিশ্লেষণে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইইউর নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর জার্মানি ছাড়াও বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলো ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী আগমন বা গ্রহণ ব্যবস্থা নিয়ে চাপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণকে ইইউর নতুন আশ্রয়নীতি বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই তথ্য বিবেচনা করে অভিবাসন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ইএফ/