যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে দিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলের সময় আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার মাধ্যমে দেশটি নতুন বিনিয়োগ ও পুনর্গঠনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে।

সিরিয়ায় ২০০০ সালে হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর বাশার আল আসাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। প্রায় ২৪ বছর রাষ্ট্রপতির পদে থাকা বাশার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশত্যাগ করে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। এরপর সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হন আহমেদ আল শারা, যিনি আগে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার সিরিয়া শাখার নেতা ছিলেন।

বাশার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেল বিক্রয়, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও ২০২৪ সালের পর ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করেছিল, শারা প্রশাসন চেয়েছিল এগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হোক।

গতকাল মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের সিনেটে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ভোটাভুটিতে ৭৭ জন সিনেটর বিলের পক্ষে এবং ২০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বিলটি অনুমোদন করেন।

সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন জানান, “সিরিয়ার সাধারণ জনগণ কয়েক দশক ধরে অভাব-দারিদ্র্য ও যুদ্ধে ভোগান্তি ভোগ করেছে। এই পদক্ষেপ তাদের পুনর্গঠন ও দেশকে নতুনভাবে গড়ার সুযোগ দেবে।”

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক।”

এই ঘোষণার ফলে সিরিয়ায় দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন দ্রুত গতিতে এগোতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।