পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানের সম্ভাব্য জাহাজ লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সাউদার্ন কমান্ডের বক্তব্যে বলা হয়েছে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি পরিচিত মাদক চোরাচালান পথ ব্যবহার করছিল এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এটি অবৈধ মাদক বহন করছিল।

হামলায় ব্যবহৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, একাধিক ইঞ্জিনযুক্ত জাহাজটি সমুদ্রের মধ্যে দ্রুত চলছিল, সেই সময় আকাশ থেকে বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারিত ও পরিকল্পিত ছিল এবং এতে চোরাচালানকারীদের প্রতিরোধ করা হয়েছে।

তবে এই ধরণের হামলার বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরেও একই এলাকায় এমন একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। প্রথম হামলার পর দুজন ব্যক্তি বেঁচে যান, কিন্তু পরবর্তী অভিযানেই তাদেরও নিহত করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসেথ সমালোচনার মুখে পড়েন।

মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ পর্যন্ত এই ধরনের অভিযানে ৮৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যারা মূলত সন্দেহভাজন মাদক চোরাচালানকারী। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সাউদার্ন কমান্ড বলেছে, “আমরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় সন্ত্রাস ও মাদক চোরাচালানের প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিচ্ছি, এবং এই অভিযান সেই নীতির অংশ।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নকে উসকে দেয়। বিশেষ করে যেখানে লক্ষ্যবস্তু জাহাজ ও নৌকা, এবং হামলায় নিহতদের শনাক্তকরণ ও বিচার নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের মিডিয়া মার্কিন নীতি ও সশস্ত্র অভিযানের সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে।