ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে আগামী মার্চের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে “ভয়ঙ্কর কিছু” ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। প্রয়োজনে আবারও ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত দেন তিনি।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা আগামী মাসের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা অপরিহার্য। তা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নিতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পক্ষে থাকলেও তেহরানকে এ বিষয়ে অগ্রসর হতে হবে; অন্যথায় পূর্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানের চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা প্রায় দুই দশক ধরে চলমান। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এ উত্তেজনা বাড়ে, আর দ্বিতীয় মেয়াদে তা আরও তীব্র আকার নেয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন বাহিনী ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করে, যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। যদিও বর্তমানে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবু কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এদিকে গত ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি আরোপের পর ট্রাম্প সামরিক অভিযানের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যসংলগ্ন জলসীমায় ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

এরই মধ্যে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে জানুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক তৎপরতা শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছায়, নাকি উত্তেজনা আবারও নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।