রাশিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-কে একটি ‘অবাঞ্ছিত সংস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করে দেশটিতে নিষিদ্ধ করেছে। এই সিদ্ধান্তটিকে ক্রেমলিনের সমালোচক, সাংবাদিক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে রুশ সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আরও তীব্র হয়েছে।
২০১৫ সালের একটি আইনের অধীনে এইচআরডব্লিউকে নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো— রাশিয়ায় সংস্থাটির সমস্ত কাজ এখন থেকে বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও, এই ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ফৌজদারি অপরাধের জন্য দায়ী করা হবে এবং যারা গোষ্ঠীটিকে সমর্থন বা সহযোগিতা করবে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হতে পারে।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ার সরকারকে মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য চাপ দিয়ে আসছে এইচআরডব্লিউ। এতো বছরেও আমাদের কাজ পরিবর্তিত হয়নি, তবে নাটকীয়ভাবে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা হলো রুশ সরকারের স্বৈরাচারী নীতি, দমন-পীড়নের বিস্ময়কর বৃদ্ধি এবং ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের পরিধি।”
এই নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়া সম্প্রতি একাধিক সমালোচকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস রাশিয়ান নারীবাদী পাঙ্ক ব্যান্ড ‘পুসি রায়ট’-এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে, যা গোষ্ঠীটিকে একটি চরমপন্থী সংগঠন হিসাবে মনোনীত করতে পারে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কঠোর সমালোচক আলেক্সি নাভালনির (কারাগারে যিনি প্রয়াত হয়েছেন) প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতি দমন ফাউন্ডেশনকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে মনোনীত করেছে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ‘অবাঞ্ছিত সংগঠন’-এর তালিকায় বর্তমানে ২৭৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে রেডিও ফ্রি ইউরোপসহ বেশকিছু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম, চ্যাথাম হাউসের মতো থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতো দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত।
ইএফ/