যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস ইকোনোমিক ফোরামে নিজের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলছেন, এটি এমন একটি উদ্যোগ, যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত ও ঘৃণার অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এটি জাতিসংঘের বিদ্যমান কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক শক্তি কেন্দ্র গঠনের প্রয়াস হতে পারে।

ফাঁস হওয়া খসড়া নথি অনুযায়ী, ট্রাম্প আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন এবং তাদের অধীনে সদস্য নির্বাচনের পুরো ক্ষমতা, উপ-সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করার ক্ষমতা তার হাতে থাকবে। এমনকি তিনি চাইলে নিজের উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও রাখবেন। বোর্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য কোনো দেশকে ১০০ কোটি ডলার দিতে হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দাভোসে বোর্ড উদ্বোধনে ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল, যেখানে আর্জেন্টিনা থেকে আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজতন্ত্র পর্যন্ত অংশ নিয়েছে। তবে কিছু দেশ, যেমন সুইডেন এবং মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের একটি জোট, অংশগ্রহণে দ্বিধা প্রকাশ করেছে। বিশ্ব নেতারা আশঙ্কা করছেন, বোর্ডের এই কাঠামো জাতিসংঘের প্রচলিত শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ট্রাম্পের মতে, বোর্ডটি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করবে, তবে তিনি নিজের উদ্যোগে প্রায় যে কিছু চান তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, হয়তো বোর্ড জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপনও করতে পারে, কারণ তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী সংস্থাটি কিছুক্ষেত্রে কার্যকরী নয়।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক সংঘাতে তার সক্রিয় হস্তক্ষেপকে প্রতিফলিত করছে। বিশেষ করে গাজা এবং ইউক্রেনে সংঘাত সমাধানের ক্ষেত্রে বোর্ডের ভূমিকা লক্ষ্যণীয়। সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস মনে করেন, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি উদ্যোগকে পুনর্গঠন করার একটি নতুন আহ্বান হতে পারে।

ট্রাম্প বোর্ডের মাধ্যমে নিজেকে সম্ভাব্য প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিশ্ব রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন উত্তেজনা এবং দ্বন্দ্বের কারণ হতে পারে।