ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে ‘বিভ্রান্ত ক্লাউন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে করা জেলেনস্কির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দাভোস সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইরানের সরকার সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তার দাবি ছিল, ইরান যদি এভাবেই টিকে থাকে, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে স্বৈরশাসকদের জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা হয়ে উঠবে—গণহত্যার মাধ্যমেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা সম্ভব। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে নিজের ও তার সেনাবাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত জেনারেলদের পকেট ভারী করছেন। তার ভাষায়, ‘জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারী অবৈধ আগ্রাসন’ মোকাবিলার অজুহাতে পশ্চিমা সহায়তাকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি নির্লজ্জভাবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হামলার আহ্বান জানাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
আরাগচি আরও বলেন, ইরান কোনো ভাড়াটে সৈন্য বা বিদেশি মদদপুষ্ট বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়। তার মতে, ইরানিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জানে এবং বিদেশি আগ্রাসন ঠেকাতে কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে হয় না। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব এখন জেলেনস্কির মতো বিভ্রান্ত ও নাটকপ্রবণ নেতৃত্ব দেখে ক্লান্ত।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে। একদিকে পশ্চিমা সমর্থনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন, অন্যদিকে ইরান নিজেকে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাকযুদ্ধ শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতে শক্তির নতুন মেরুকরণের প্রতিফলন।