রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েকদিনে সেই আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শান্তিচুক্তি চাইলে ইউক্রেনকে প্রথমে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো থেকে সেনা সরাতে হবে। তিনি বলেন, “চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো। না হলে সামরিক শক্তিতেই লক্ষ্য অর্জন করা হবে।”

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের পর ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় দোনেস্ক ও লুহানস্কসহ ডনবাস অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুতিনের দাবি এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে হবে।

কিন্তু ইউক্রেন সরকার এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কিয়েভ জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ডনবাসের কোনো অংশই তারা ছাড়বে না, এবং ভূখণ্ড নিয়ে আপসের প্রশ্নই ওঠে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পুতিনের নতুন অবস্থানকে “শান্তি প্রচেষ্টার প্রতি অপমান” বলে মন্তব্য করেছেন।

কিরগিজস্তান সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পুতিন আরও বলেন ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে চায় শেষ সৈনিক পর্যন্ত। যদি তারা যুদ্ধ চায়, রাশিয়া প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির জন্য যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে তা রাশিয়া হাতে পেয়েছে বলেও জানান পুতিন। তার ভাষায়, “এটি আলোচনা পরিচালনার ভিত্তি হতে পারে। খসড়ায় এমন কিছু ধারা আছে যেগুলো নিয়ে আরও কথা বলতে হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই অবস্থান আলোচনার পথ আরও কঠিন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতির আশা জেগে উঠলেও ভূখণ্ডিক দাবিতে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়, ফলে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

চাইলে আমি এই বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলাদা স্টোরিও তৈরি করে দিতে পারি।