আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে সোমবার সকাল থেকে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে ব্যাপক গোলাগুলি। প্রেসিডেন্ট প্যালেসের আশপাশে কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্দুকের গর্জন শোনা গেছে। বার্তাসংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির শব্দ একপর্যায়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এ ঘটনায় কে বা কারা গুলি চালাচ্ছে এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর কারাগার ও প্যালেস সংলগ্ন এলাকায় তারা স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান থেকে গুলির শব্দ শুনেছেন এবং দ্রুত গাড়ি ছাড়তে দেখা গেছে।
এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে থির্নো বাল্ডে নামে এক হিসাবরক্ষক বলেন, “আমি গাড়ি দ্রুত এগোতে দেখেছি। জানালার কাছে গিয়ে লক্ষ্য করি, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হচ্ছে। গোলাগুলির তীব্রতা খুব দ্রুত বাড়ছে।” অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার কিছু পরে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রথমে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তা বেড়ে যায় এবং আশপাশের এলাকা তীব্র আতঙ্কে ভরে ওঠে। কারাগারের দিকে যাওয়া সড়কগুলো পুলিশ বন্ধ করে দেয়। ঘটনাস্থলে একটি সাঁজোয়া যানও মোতায়েন ছিল, যা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গোলাগুলির কারণে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি পরিস্থিতি মনিটর করছে।
এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা আহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, আতঙ্কিত হয়ে রাস্তা না দিয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য।
গিনির রাজধানীতে এই গোলাগুলি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা বিষয়ক যেকোনো প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।