ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ শনিবার বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ১৯৯২ সালের অযোধ্যা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর এ ধরনের ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসন ও আদালত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, যে কোনো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রোধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্য প্রশাসন সীমান্তবর্তী ও আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীও এলাকায় অবস্থান করছে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ও র্যাফের ৩৫০০ সদস্যের টিম মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের নিরাপত্তার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কোনো উপস্থিতি থাকবে না। দুই ঘণ্টা কোরআন পাঠ অনুষ্ঠিত হবে, কোনো বক্তৃতা বা দলীয় পতাকা থাকবে না। তিনি জানিয়েছেন, মসজিদ নির্মাণে তিন বছর সময় লাগবে এবং অর্থসংস্থান করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এছাড়া হুমায়ুন সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করার জন্য।
রাজ্যের তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অনুষ্ঠানকে নির্বাচনী ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি রাজভবনে ‘অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা অশান্তি নজরদারি করবে।
প্রসঙ্গত, এই অঞ্চলে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আট মাস আগে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। আজকের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে।