ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নতুন হামলায় আরও পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে খান ইউনিসের বিভিন্ন এলাকায় দখলদার বাহিনী টানা বোমাবর্ষণ চালায়। এর মাত্র এক দিন আগে একই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছিল।

ইসরায়েল দাবি করে, বুধবার তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের পরপরই তারা আকাশপথ থেকে ব্যাপক হামলা শুরু করে। স্বাস্থ্যকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বনি সুহাইলা শহরের একটি বসতবাড়িতে বোমা পড়লে তিনজন নিহত হন, যাদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে। আহত হন আরও অন্তত ১৫ জন। খান ইউনিসের আবাসান এলাকায় অপর একটি হামলায় প্রাণ হারান এক ব্যক্তি এবং আহত হন তিনজন। একই এলাকায় পরবর্তী হামলায় আরও একজন নিহত হলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে।

স্থানীয় আল–নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হতাহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী হামলার কথা স্বীকার করলেও বেসামরিক হতাহতের দায় অস্বীকার করেছে।

হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় ইসরায়েলের পুনরাবৃত্তি হামলা যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের ভাষ্য, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার হামলা শুধু মানবিক বিপর্যয় বাড়াচ্ছে না, বরং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকেও আরও অস্থিতিশীল করছে।

গত মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা ইসরায়েল ইতোমধ্যে শতাধিকবার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।