ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খারকিভের কৌশলগত শহর কুপিয়ানস্ক এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান জেনারেল সের্গেই কুজোভলেভ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। কুপিয়ানস্ককে দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষার অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
কুজোভলেভ পুতিনকে জানান, রুশ সেনারা কুপিয়ানস্ককে সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। এটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা দুর্গ ছিল। শহরটির পতন পূর্ব ফ্রন্টে ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এ খবর এমন সময় এসেছে যখন কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে সম্ভাব্য একটি খসড়া প্রস্তাব পেয়েছে। ইউক্রেন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “আমরা যে খসড়া পেয়েছি, তা মূলত রাশিয়ার দাবি করা দখলকৃত অঞ্চলগুলোকেই বৈধ করার ইঙ্গিত দেয়।” অর্থাৎ মস্কো যে ভূখণ্ডগুলো নিজেদের বলে দাবি করে আসছে, আলোচনার সেই প্রস্তাব সেগুলোকেই কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের মধ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনার সূচনা ঘটে। ক্রিমিয়া এর আগে ইউক্রেনের অংশ হলেও পরে রাশিয়া একতরফাভাবে তা নিজেদের মানচিত্রে যুক্ত করে। ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তিতে ইউক্রেন ক্রিমিয়ার বিষয়ে কিছু শর্ত মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তীতে ন্যাটো সদস্যপদের দিকে ঝুঁকলে দু’দেশের সম্পর্ক আবারও তীব্র হয়ে ওঠে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় চার বছরের লড়াইয়ে দনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনের বড় অংশ ইতোমধ্যে দখলে নিয়েছে মস্কো। এসব অঞ্চল এখন রাশিয়ার সংবিধানগত অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। রাশিয়ার শর্ত ক্রিমিয়ার পাশাপাশি দখল করা চার প্রদেশকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। অপরদিকে ইউক্রেনের অবস্থান রাশিয়া দখল ছেড়ে না দিলে কোনো শান্তিচুক্তিই সম্ভব নয়।
কুপিয়ানস্ক পতনের পর পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।