পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার (৯ ডিসেম্বর) কোচবিহার জেলায় প্রশাসনিক বৈঠকে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে ঘটছে বাড়াবাড়ির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সীমান্তের পরিস্থিতি অতিরিক্ত জটিল হয়ে উঠেছে এবং অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঠেলা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহার সীমান্ত এলাকা। এখানে বাসিন্দাদের হয়রানি বরদাশত করা হবে না। রাজ্য পুলিশের প্রতি আমার নির্দেশ, ভয় পাবেন না, সক্রিয় হোন, নাকা অভিযান জোরদার করুন।” তিনি আরও বলেন, যারা বাংলা বলছে তারাই বাংলাদেশি নয়। “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, পশ্চিমবঙ্গ একটি রাজ্য। অন্য রাজ্য বা দেশের ভাষা বলার ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা ঠিক নয়।”

মমতা সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ভ্যান টহলের হ্রাসকেও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আগে এক এলাকায় তিন-চারবার পুলিশ ভ্যান টহল দিত। এখন তা দেখা যায় না। রাত-দিন তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকা উচিত।”

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর (সরাসরি ভোটার তালিকা সংশোধন) প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক এবং বুথ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “অনেক নাম ঠিকমতো অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। বিদেশে বিবাহিত ব্যক্তিরা, অভিবাসী শ্রমিকদেরও তালিকায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সকলকে প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী দেশের অন্যান্য রাজ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যুর উদাহরণ উল্লেখ করে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, কেরালা—এসআইআর চলাকালীন মানুষ মারা গেছেন। আগে দুই বছর লাগত, এখন দুই মাসে সম্পন্ন হচ্ছে। দেশের আইন, প্রক্রিয়া, মানুষের নিরাপত্তা—সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে।”

কোচবিহারের বৈঠকে মমতা সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা ও রাজ্যের প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের ওপর জোর দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, সীমান্তে অতিরিক্ত কৃত্রিম বিধিনিষেধ বা মানুষের হয়রানি কখনও বরদাশত হবে না।