দীর্ঘ সপ্তাহব্যাপী সীমান্ত সংঘাতের পর অবশেষে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুই দেশ এক যৌথ যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ থাকবে। এতে একে অপরের সামরিক লক্ষ্যবস্তু, বেসামরিক নাগরিক, এবং সাধারণ জনগণের সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ নিষিদ্ধ।

দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ অঞ্চলের ‘পান্না ত্রিভুজ’ বা এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গলকে কেন্দ্র করে ১১৮ বছরের দ্বন্দ্ব চলছিল। পান্না ত্রিভুজে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা মিলিত হয় এবং প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনাসমৃদ্ধ হওয়ায় উভয় দেশই অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছিল।

সংঘাতের ইতিহাসও দীর্ঘ। কম্বোডিয়ার ফ্রান্সের ঔপনিবেশ থেকে ১৯৫৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পরও থাইল্যান্ডের সঙ্গে পান্না ত্রিভুজের ওপর দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে। দুই দেশ ১৫ বছর আগে একবার যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তবে গত বছর মে মাস থেকে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। জুলাই মাসের শেষ দিকে পাঁচ দিনের সংঘাতে দুই দেশের মিলিতভাবে ৪৮ নাগরিক নিহত হন, এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশে পালাতে বাধ্য হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া মধ্যস্থতা করে। শেষ পর্যন্ত দুই দেশ আবারও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি শুধু সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে না, বরং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করবে।

উল্লেখ্য, পান্না ত্রিভুজে সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণেও যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।