যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ংকর যৌন অপরাধীদের একজন জেফ্রি এপস্টেইন। বিপুল সম্পদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ধনকুবের ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারে রহস্যজনকভাবে মারা যান।

১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টেইন শুরুতে ছিলেন একজন শিক্ষক। ১৯৭০-এর দশকে অভিজাত ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন তিনি। সেখান থেকেই ওয়াল স্ট্রিটে প্রবেশের সুযোগ পান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগ জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। নিজের প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কো’-এর মাধ্যমে একসময় এক বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়।

প্রভাবশালীদের সান্নিধ্য

এপস্টেইনের সামাজিক বলয় ছিল বিস্ময়করভাবে শক্তিশালী। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে তার ওঠাবসার খবর প্রকাশ্যে আসে। যদিও এসব সম্পর্ক সরাসরি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়, তবে তার প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যাপ্তি স্পষ্ট করে।

অপরাধ ও বিতর্কিত বিচার

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় প্রথমবারের মতো তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে বেরিয়ে আসে বহু কিশোরীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যৌন শোষণের তথ্য। ২০০৮ সালে একটি বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তিনি কঠোর ফেডারেল শাস্তি এড়িয়ে যান এবং সীমিত মেয়াদের সাজা ভোগ করেন। এই চুক্তি পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

মৃত্যু ও অমীমাংসিত প্রশ্ন

২০১৯ সালে দ্বিতীয় দফায় যৌন পাচারের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকাকালীন কারাগারে তার মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ একে আত্মহত্যা বললেও আজও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল গ্রেপ্তার হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড পান। আদালত রায়ে বলেন, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

জেফ্রি এপস্টেইনের কেলেঙ্কারি শুধু একজন অপরাধীর গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, বিচারব্যবস্থা ও নৈতিকতার গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি—যার রেশ আজও কাটেনি।