মধ্য আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) একটি তামা ও কোবাল্ট খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মূলত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রমিকদের অবৈধভাবে খনিতে প্রবেশ এবং পরবর্তীতে আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ির কারণেই এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি কঙ্গোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় লুয়ালাবা প্রদেশের কালান্ডোর খনিতে ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির খনি খাত তদারকি সংস্থা এসএইএমএপি।

প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোয়া কাওমবে মায়োন্ডে জানান, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় আগেই খনিটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। কিন্তু বেপরোয়া খনিকর্মীরা জোর করে সেখানে ঢুকে পড়ে। বন্যা ঠেকাতে খনিতে একটি অস্থায়ী মই (ব্রিজ) তৈরি করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে দৌড়ে সেটি পার হওয়ার চেষ্টা করায় মইটি ভেঙে পড়ে।

দুর্ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে এসএইএমএপি-এর প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে সবাই মই বেয়ে ওপরের দিকে ছুটতে শুরু করলে এটি ভেঙে ভূমি ধসে পড়ে। ফলে তারা একে অপরের ওপর পড়ে গেলে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এসএইএমএপি মৃতের সংখ্যা ৪০ জানালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মায়োন্ডে অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কালান্ডো খনি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শ্রমিকদের সঙ্গে খনির বৈধ পরিচালনাকারীদের বিরোধ চলছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রাদেশিক সমন্বয়ক আর্থার কাবুলো জানান, কালান্ডো খনিতে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও শ্রমিকদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ইএফ/