ভারতের মধ্যাঞ্চলীয় ছত্তিশগড় রাজ্যে বুধবার গভীর বনাঞ্চলে মাওবাদী বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বারোজন মাওবাদী বিদ্রোহী। পুলিশের দুই কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজাপুর ও দান্তেওয়াড়া জেলা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এ ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছিল। এ অভিযান মূলত রাজ্যের মাওবাদী গেরিলাদের দমন কর্মসূচির অংশ ছিল। ছত্তিশগড়ে মাওবাদী বিদ্রোহ বহু বছর ধরে চলছে। আদিবাসী অধিকার রক্ষার দাবিতে এই বিদ্রোহ সশস্ত্র আকার নিয়েছে। ১৯৬৭ সালে মাও সেতুং-এর কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকায় ১৫-২০ হাজার মাওবাদী যোদ্ধার নিয়ন্ত্রণ ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে মাওবাদীরা শান্তিচুক্তির প্রস্তাবও দিয়েছিল। দুই মাস আগে প্রায় ৩০০ মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু বিরোধী এলাকা এবং গেরিলা কার্যক্রম এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবারের সংঘর্ষ ঘটে।
সংঘর্ষে মোট ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী। ১২ জন মাওবাদী বিদ্রোহীর মধ্যে কয়েকজন সক্রিয় গেরিলা হিসেবে পরিচিত। আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঘটনার পর জানান, কেন্দ্র সরকার ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে পুরোপুরি মাওবাদী বিদ্রোহ দমন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ়ভাবে কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিশ্চিত করা হবে।”
মাওবাদী বিদ্রোহ এখনও মধ্যাঞ্চলীয় ভারতের অর্ধেক এলাকায় প্রভাবশালী। নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, তবে বনাঞ্চলের জটিল ভূপ্রকৃতি ও স্থানীয় সমর্থন বিদ্রোহ দমনে জটিলতা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।