ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) একজন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহের বিনিময়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই মরদেহ বিনিময় প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের আওতায় ছিল।
তবে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যে জিম্মিদের গাজায় নিয়ে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্তত দু’জনের মরদেহ এখনো হস্তান্তর বাকি। এই দুজন জিম্মির মধ্যে একজন ইসরায়েলি ও অন্যজন থাই নাগরিক।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নিশ্চিত করেছেন যে, গোষ্ঠীটি ওই দুই জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। যদিও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, হামাস ইচ্ছেকৃতভাবে মরদেহ ফিরিয়ে দিতে দেরি করছে। এর জবাবে হামাস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে মরদেহগুলো খুঁজে বের করা ও উদ্ধারে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
এদিকে, তুরস্ক, কাতার এবং মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা গত মঙ্গলবার কায়রোতে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই দ্বিতীয় ধাপে গাজায় সশস্ত্র আন্তর্জাতিক বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েন এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধান দাবি অনুযায়ী, আইএসএফের দায়িত্ব হবে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাসকে নিরস্ত্র করা। ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা এই বাহিনীতে ২০ হাজার শান্তিরক্ষী পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক জিম্মির বিপরীতে ইসরায়েল ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেবে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪৫ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে; কারণ গাজায় ডিএনএ পরীক্ষার কিটের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৯৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
ইএফ/