বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এই সভায় যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দুদেশের বিদ্যুৎ খাতে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়ে এতে গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়— আন্তঃসংযোগ গ্রিড লাইন ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে। যেহেতু নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করতে হবে, সেহেতু এই জটিল বিষয়টি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

এছাড়াও, দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার অন্যান্য ফলপ্রসূ আলোচনা নিম্নরূপ নেপালে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোগকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। শীতকালে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে কম থাকায়, এসময় বর্তমান সঞ্চালন কাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপালে বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়েও আলোচনা হয়। ভেড়ামারা অংশে বিদ্যমান এইচভিডিসি সিস্টেম ব্যবহার করে নেপাল থেকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার বিষয়ে আলোচনা হয়। রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম (যার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে) সহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে উভয় দেশ সম্মত হয়।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি বিদ্যুতের বিশেষ আইন বাতিল করেছে। সেই অনুযায়ী, ভারতের জিএমআর গ্রুপ নেপালে বাস্তবায়িতব্য আপার কার্নালী জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি সম্পর্কিত এলওআই বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এই বিষয়ে চলতি বছরের ২৮ আগস্ট জিএমআর-কে অবহিত করে।

জেএসসি সভায় উভয় দেশ বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের কার্যক্রম গ্রহণেও সম্মতি প্রকাশ করে। এসময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিপিএমআই-এর প্রশিক্ষণ সক্ষমতার বিবরণ তুলে ধরা হয়। সভার আগে ২৬ নভেম্বর একই স্থানে বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সপ্তম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং নেপালের পক্ষে সেদেশের বিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ও সেচ সচিব চিরঞ্জীবী চাটৌট নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এই আলোচনার ধারাবাহিকতায় কমিটির পরবর্তী অষ্টম সভা ২০২৬ সালের অক্টোবরে নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইএফ/