ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আদালতে চলমান দুর্নীতি মামলায় থেকে অব্যাহতি চাইতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পক্ষে হেরজগকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে হেরজগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি কোনো বহিরাগত প্রভাব মানবেন না।
মার্কিন সাময়িকী পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেরজগ বলেন, “নেতানিয়াহুর পাঠানো চিঠি আমরা গ্রহণ করেছি। তবে অনুরোধটি ব্যতিক্রমী, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইসরায়েলের জনগণের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, এবং আইনের বাইরে কোনো প্রভাব আমাদের সিদ্ধান্তে কাজ করবে না।”
জেরুজালেম জেলা আদালতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি মামলার বিচার চলছে। মামলাগুলোতে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এবং তার স্ত্রী সারাহ নেতানিয়াহু সমৃদ্ধ ব্যবসায়ী থেকে মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অলঙ্কার, সিগার ও দামী মদ। এছাড়া, গণমাধ্যমকে ইতিবাচক প্রচার সুবিধা দেওয়া এবং টেলিকম প্রতিষ্ঠান বেজেক থেকে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০১৯ সালে এই মামলাগুলো দায়ের হলেও বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়েছিল নেতানিয়াহুর প্রভাবের কারণে। ২০২১ সালে মামলাগুলো পুনরায় চালু হয়। এরপরও হামাসের আক্রমণের কারণে গত ৭ অক্টোবর বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির পর পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট হেরজগকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তবে হেরজগ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বা অন্য কোনো প্রভাব বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আমাদের এই সম্পর্ককে যথাযথ প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত।”
এবারের পরিস্থিতি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রেসিডেন্ট হেরজগের অবস্থান স্পষ্ট—আইনের বাইরে কেউ পদক্ষেপ করতে পারবে না।