আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার পথে এক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। নৌকাডুবির ঘটনায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৯২ জন নারী ও ৪৩৭ জন শিশু রয়েছে।

স্পেনভিত্তিক অভিবাসী অধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেয়ার্স বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশীরা মোট ৩০টি দেশের নাগরিক। তাদের অধিকাংশই পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের হলেও এ তালিকায় পাকিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইরাক ও মিসরের নাগরিকরাও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরপথে স্পেনে যাওয়ার প্রধান রুট হলো উত্তর আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ার উপকূল। এই উপকূল থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছাতে হয়। ইঞ্জিনচালিত নৌযানে এই যাত্রা সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রায় ১২ দিন সময় লাগে।

বছরের অধিকাংশ সময়ই এই সাগরপথ অত্যন্ত বিপজ্জনক থাকে। উত্তাল সমুদ্র, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বিকল্প কোনো নিরাপদ পথ না থাকায় স্পেনে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ রুট বেছে নিচ্ছেন।

কামিনান্দো ফ্রন্তেয়ার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৌরিতানিয়া-ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ রুটে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালে এই একই রুটে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০ হাজার ৫৪৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী।

তবে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সাগরপথটি এখন নিরাপদ হয়ে গেছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এই রুট এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অভিবাসীদের জীবন রক্ষায় সীমান্ত নীতিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ এবং বিপজ্জনক সাগরপথে যাতায়াত কমাতে বিধিনিষেধ শিথিলের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।