বাংলাদেশে প্লট বরাদ্দ–সংক্রান্ত আলোচিত দুর্নীতি মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ আরও কয়েকজনের রায় ঘোষিত হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। রায় ঘোষণার আগেই লন্ডনের একদল খ্যাতিমান আইনজীবী এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের কাছে চিঠি পাঠিয়ে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিত’, ‘অন্যায্য’ এবং ‘স্বচ্ছতার ঘাটতিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড কেসি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভি, মানবাধিকার আইনজীবী চেরি ব্লেয়ার কেসি, ফিলিপ সেন্ড কেসি এবং জিওফ্রে রবার্টসন কেসি। তারা অভিযোগ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিকিকে মামলার অভিযোগপত্র যথাযথভাবে জানানো হয়নি এবং তার নিযুক্ত আইনজীবীদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি যাকে তিনি আইনি প্রতিনিধির দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে এবং তার পরিবারের ওপর হুমকি এসেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর টিউলিপ সিদ্দিকি, তার মা ও পরিবারের আরও কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়। অভিযোগ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে টিউলিপ পূর্বাচলে তার মায়ের জন্য প্লট নিয়েছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিকি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত জানুয়ারিতে তিনি যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
ব্রিটিশ আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী এবং নির্বাচিত এমপি হিসেবে টিউলিপ ন্যায়সঙ্গত আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রাখেন। তারা বলেন, অভিযোগ প্রমাণের যথেষ্ট ভিত্তি না থাকলে তাকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ করা উচিত নয়।
লন্ডনে টিউলিপকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তীব্র হয়েছিল। সমালোচনার মুখে পদ ছাড়ার বিষয়ে তিনি তখন বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্ক মন্ত্রিসভার কাজকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
আগামী ১ ডিসেম্বরের রায় এ বিতর্কে নতুন মোড় আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য।